
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা পাঠাতে হবে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা মরদেহগুলোর অধিকাংশই গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতদের স্বজনদের রক্ত বা মুখের ভেতরের কোষের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে মরদেহ থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে। দুই পক্ষের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নমুনা ঢাকায় পাঠানো এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে। দগ্ধ বা বিকৃত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলেও জানান তিনি।
রবিবার সকাল থেকে হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন নিহতদের স্বজনেরা। তাঁদের একজন সামুশুদ্দোহা জানান, তাঁর পরিবারের চারজনের মরদেহ সেখানে রয়েছে। ছোট শিশুটিকে হাতে থাকা ব্রেসলেট দেখে শনাক্ত করলেও অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
রিপন নামের আরেক স্বজন জানান, মরদেহ ও স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ মিললেই মরদেহগুলো বুঝে নিতে পারবেন তাঁরা। দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ভোগান্তি কমাতে কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম বিভাগে আধুনিক ডিএনএ পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অন্যদিকে, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাতে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ, তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পর্যটননগরী কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড, সমুদ্রে দুর্ঘটনা ও অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের মতো ঘটনায় দ্রুত পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয়ভাবে আধুনিক ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষাগার স্থাপন জরুরি। এতে তদন্তের সময় কমার পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিও কমবে।